আমার মনে আছে এক শীতের রাত ২.০০ টার দিকে আমি HBO তে চেরেনবিল সিরিজ দেখেছিলাম এবং তার পরের ২ রাত আমার ভালো করে ঘুম হয় নি।
সোভিয়াত ইউনিয়নের মতে চেরনোবিল বিষ্ফোরনে মারা গিয়েছিল মাত্র এবং মাত্র ৩১ জন।মাত্র সাড়ে তিন হাজার মানুষকে কিভাবে ৩১ জনে পরিনত করতে হয় তা তৎকালিন সোভিয়াতের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরভাচেভের চাইতে ভালো কেউ বলতে পারবে না।
আপনি এখন নিরাপদ সেটা বলতে পারেন? দেশেই হচ্ছে এমন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট।যদিও বা প্রযুক্তি আগের চাইতে অনেক উন্নত।
তার আগে চলুন চেরনোবিলের ঘটনা টা দেখে আসি।
২৬ এপ্রিল ১৯৮৬। অন্য সব দিনের মতই সাধারন। কিন্তু প্রিপয়েত শহরের ৩ কোটি মানুষ তাদের জীবনের শেষ দিনগুলোতে চলে এসেছে।
প্রায় ভোর ভোর অবস্থা। এমন সময় বুমমম!
ইয়ানিভ রেলস্টেশন থেকে হাজারো প্রিপাত বাসী দেখছে নীল আগুন। ৪ কিলোমিটার দূর খেকেও স্পস্ট দেখা যাচ্ছে আগুন। তারা জানে তারা আগুন থেকে নিরাপদ তবে তারা জানে না তারা তেজস্ক্রিয়তা থেকে নিরাপদ নয়।
এই যে এত বড় বিস্ফোরন,কোটি মানুষের মারা যাওয়া সবার পেছনে আছে এক জঘন্য গল্প। যে গল্পে মানুষ প্রমান করেছে তারা কতটা স্বার্থন্বেষী।
আলেক্স আকিমভ। সুপারভাইজার হিসেবে লোকটা দারুন।চেরনোবিল পাওয়ার প্লান্টে সেই ২৬ এপ্রিল নাইট শিফটে কাজ করছিলেন। হটাৎ কিছু উর্ধতন কর্মকর্তা এসে তাকে আদেশ দিলেন মূল পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ করে দিতে!! তারা এক্সপেরিমেন্ট করতে চান।আকিমভ সেটা কোনমতেই করতে দিতে চান নি। কিন্তু তাকে রাজি হতে হয়। তিনি ২০ সেকেন্ড পাওয়ার সাপ্লাই অফ করার সিদ্ধান্ত নেন। করেন ও। ফলে রি অ্যাকটরের পানিকে ঠান্ডা করা যায় নি।রিঅ্যাকটরে চাপ বেড়ে যায় তারপর...
সামান্য এ এক্সপেরিমেন্ট প্রান কেড়ে নিয়েছে অগনিত মানুষের।২০ হাজার বছরের(২০০০০) জন্য করেছে প্রিপাত শহরকে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী।
আপনি কি নিরাপদ? যখন এ বিষয়টা আমি আমার মা কে বোঝাতে চাচ্ছিলাম তিনি বললেন "হোক যেকোন কিছু।পাবনা থেকে রংপুর অনেক দূরে।এখানে ঝামেলা হবে না।"
আসলেই কি তাই?আপনার ও যদি এরকম মনে হয়ে থাকে তবে সেটা ভুল।
বাংলাদেশের বিস্তার ৪৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭৭০ কিলোমিটার। জেনে অবাক হলেও সত্যি যে চেরনোবিলের আশেপাশের ৫০০০ কিলোমিটার এলাকা তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব সহ্য করেছিল।আর প্রিপয়েত শহরের ৩০ কিমি এলাকাকে এক্সক্লুসিভ জোন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
২০ হাজার বছরের মধ্যে তা মানুষের বসবাসের যোগ্য হবে বলে ধারনা করা যায়।মাত্র ২০ হাজার বছর।
পরিবেশে যে পরিমাণে পারমাণবিক পদার্থ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল তা ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিক্ষিপ্ত প্রায় পাঁচশটি পারমাণবিক বোমার সমান। এই দুর্ঘটনার ফলে উদ্ভূত পারমাণবিক ভাবে সক্রিয় মেঘটি ইউক্রেন, বেলোরাশিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে, গ্রেট ব্রিটেনে এমন কি পূর্ব আমেরিকার ওপর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল ৩৪ বছর আগের টেকনোলজি আর এখনকার টেকনলজি তো এক নয়।এরকম কথাও শোনা যায়। সেটা নিয়েও কথা বলব।
একটা মাত্র ভুল কাজ পুরো দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সোভিয়াত ইউনিয়নের মত বড় একটা দেশের পতনের নৈপথ্যে ছিল কিন্তু এই বিষ্ফোরন।
বাতাসে যদি এস এম ভি ২ পর্যন্ত থাকা ভালো।দিল্লিতে এখন এস এম ভি এর মাত্রা ৫০০ পর্যন্ত পাওয়া যায়।সেখানে পাওয়া গিয়েছিল ২১০০ এস এম ভি। ফলে এই বাতাসে দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার কারনে প্রিপয়েত শহরের বেশির ভাগ মানুষ মারা গিয়েছিল।তাই আমরা যে দূরত্বের কথা বলি সেটাও একেবারে সঠিক না।
কিছু কথাঃ এই সিরিজটা সম্পূর্নভাবে নিউক্লিয়ার ট্রাজেডি নিয়ে লেখা। তাই এই সিরিজে এর ক্ষতিকর দিকের কথাই উঠবে। আমরা জানি আধুনিক বিশ্ব গঠনের পেছনে নিউক্লিয়ার ফিশন পাওয়ারের গুরত্ব। তবে এই গুরত্ব অন্যদিনের জন্য তোলা রইল। এখানে যা আলোচনা করা হবে সেটা শুধুমাত্র নিউক্লিয়ার বিপর্যয় নিয়ে এবং তা আমাদের দেশে বা প্রতিবেশি দেশে ঘটলে আমাদের কি হবে তা নিয়ে। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। একটু সাবধানে পড়ার অনুরোধ রইল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন