সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

Phycices লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মহাবিশ্বের শেষ তারাটি ( Red dwarf aka গরিব লাল বামন)

মহাবিশ্বের শেষ তারাটি ( Red dwarf aka গরিব লাল বামন) আজ থেকে হয়তো অনেক অনেক অনেক দিন পরে, একটা নিঃসঙ্গ তারা একা একা ঝুকছে, তার আশেপাশের সমস্ত তারা মারা গিয়েছে আগেই, সেই টিকে আছে। তারাটি জানে, তার ও বেচে থাকার সম্ভাবনা নেই বেশিক্ষণ, তার এনার্জি প্রায় শেষ। তারাটা নিজের জীবন নিয়ে একটু চিন্তা করলো, সারাজীবন তার আকার ছোটোই ছিল। ছোট হওয়ার কারণে বামন নামের কুটুক্তি শুনতে হতো তাকে। সবাই বলতো, ও বেশিদিন বাচবে না।  সবাইকে ভুল প্রমান করে সে একা বেচে থাকল,তার আশেপাশের সবাই তাকে কুটক্তি কুটক্তি করতে করতেই মারা গেল, একেবারে উচিত জবাব। এসব ভাবতে ভাবতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল তারাটি। এর সাথেই সমগ্র মহাবিশ্ব হয়ে গেল অন্ধকার। ব্লগ থেকে দেখে নিতে পারেনঃ https://rb.gy/lhq5l3   গুগল ডক থেকে দেখে নিতে পারেনঃ https://rb.gy/rjfowo উপরের গল্পটা রেড ডোয়ার্ফের, বাংলায় লাল বামন। নক্ষত্রটি অনেক ছোট আকারের। এমনকি , শক্তিও খুব বেশি না, আমাদের সূর্যের চাইতেও ঠান্ডা। এর আলোও আমাদের দর্শণ সীমায় নয়। ইনফ্রারেড আলোতে জ্বলে।  ভর? সেটাও অনেক কম। সূর্যের ভরের ৮% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সূর্যের ভরের ৪০% পর্যন্ত ভর ...

H-R Diagram (কিভাবে আমরা তারা সম্পর্কে আমরা জানি?)

  ৪.৪ আলোকবর্ষ দূরের আলফা সেন্টিরিউ থেকে শুরু করে ৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের MACS J1149+2223 । এত দূরের দূরের গ্রহ সম্পর্কে আমরা কিভাবে জানি? তাদের ভর, প্রকৃতি আকার সম্পর্কে আমরা কিভাবে জানি? H-R Diagram দিয়ে | যার  পূর্নরূপ Hertzsprung-Russell Diagram । কারণ তা আবিষ্কার করেছিলেন Ejnar Hertzsprung and Henry Norris Russell  তবে আদি ধারণা ছিল গ্রিক দার্শনিক হিপোকাসের।jজিনিসটা মোটেও জটিল না, খুব সহজে বোঝানোর চেষ্টা করব।  অনেক অনেক দিন আগের এক রাত, গ্রিসের আকাশে অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছে। সেই আকাশের নিচে বসে তারা দেখছিলেন Hipparchus সাহেব। তিনি দেখলেন আকাশের তারাগুলো সব এক উজ্জ্বলতার নয়। কিছু তারা বেশি উজ্জ্বল, কিছু তারা কম। তাই তিনি মনে করলেন উজ্জ্বলতার ভিত্তিতে এদের ভাগ করা যায় । সেটাই করলেন তিনি। উজ্জ্বলতার ভিত্তিতে তারাগুলোকে ৬ টা ক্যাটাগরিতে ভাগ করলেন। ক্যাটাগরিকে ১ ,২ ,৩ এভাবে ৬ পর্যন্ত ধরা যায়। ক্যাটাগরি ১ ছিল সবচাইতে উজ্জ্বল তারা, ৬ ছিল তার দেখা সবচাইতে হালকা আলোর তারা ।  Hipparchus সময় লাইট পলিউশন ছিল না বললেই চলে। তবে, তখনকার দিনে এখনকার মত উন্নত প্রযুক্তি ছিল...

নিউক্লিয়ার বিপর্যয় (পর্ব ৪)

থ্রি মাইল আইল্যান্ড,হ্যারিসবার্গ, পেনসেলভেনিয়া,যুক্তরাষ্ট্র "আমেরিকার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রকল্প মারা গিয়েছে। এটা মারা গিয়েছে থ্রি মাইল আইল্যান্ডে।" প্রতিটা নিউক্লিয়ার বিপর্যয়ের একটা কারণ থাকে। চেরেনোবিলের ঘটনার পেছনের কারণ ছিল এক্সপেরিমেন্ট। ফুকিশিমা ট্রাজিডির পেছনের কারণ ছিল সুনামি। থ্রি মাইল আইল্যান্ডের দুর্ঘটনার কারণ ছিল যান্ত্রিক ত্রুটি। যদিও বা চেরনোবিল ট্রাজিডির ৬ বছর আগেই হয়েছিল এ দুর্ঘটনা। ফুকুশিমা বা চেরেনবিল ট্রাজিডির থেকে এই দুর্ঘটনাতে অনেক কম ক্ষতি হয়েছিল। আমেরিকার মতে এই দুর্ঘটনায় কোন মানুষ মারা যায় নি। যদিও বা এ নিয়ে বিতর্ক আছে,তবুও আমরা রিপোর্ট এর তথ্যটাকেই সত্য বলে মনে করব। বিস্তারিত তথ্যের জন্য কমেন্টে রিপোর্ট টা রাখলাম,দেখে নিতে পারেন। T.M.I বা থ্রি মাইল আইল্যান্ড চালু হয় ১৯৭৪ সালে। চালু হওয়ার পর হ্যারিসবার্গ,পেনসেলভিনিয়ার মানুষজন বিরোধিতা করেন।সঠিক বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা না করায় এটা বন্ধ করার দাবি ওঠে। নকশা ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে এ নিয়ে আন্দোলন ও শুরু হয়। তার মধ্যেই ঘটে যায় এ ট্রাজিডি। ২৮ মার্চ ১৯৭৯ সাল। বিকাল ৪ টা। T.M.I এর দুটো রি এক্টর ছিল। দুটো মিলে ১...

নিউক্লিয়ার বিপর্যয় (পর্ব 3)

১১ মার্চ ২০১১। দিন চলছে দিনের মতনই। ফুকুশিমার রিএক্টরর ও চলছে ভালোভাবেই। ৬ টা রিয়েক্টরের ৪ টা চলছে,বিদ্যুত তৈরি করছে।হাজারো ইঞ্জিনিয়ার আর লোক তাদের শিফটে কাজ করছেন। মাসাও ইউশিডা। ফকুশিমা দাইইচি পাওয়ার প্লান্টের ম্যানেজার। দুপুরের লাঞ্চ শেষ, পাওয়ার প্লান্ট একবার চক্কর দিয়ে আসাও শেষ। সব প্লান মোতাবেক ঠিক ঠাক চলছে। সুপারভাইজার কে সব বুঝিয়েও দেয়া হয়েছে।তাহলে এখন একটু জিরিয়ে নেয়া যাক। সামনে থাকা বইটি নিয়ে পড়া শুরু করলেন।বেশ অনেকবছরের অভ্যাস এটি। বই না পড়লে তার ভালোই লাগে না। সময় টা ঠিক মনে নেই। দুপুর ৩.১০-৩.১৫ এর মাঝামাঝি বা আশেপাশে। হটাৎ তার হাতের বইটা কাপতে শুরু করল। না বয়সের কারণে তার হাত কাপছে না। রিখটার স্কেলে 9 মাত্রার ভূমিকম্প। দিলেন দৌড়। তবে সতর্ক সংকেত চালু করতে ভুলে যান নি। সব লোক সাবধানতা অবলম্বন করল। কিছুক্ষন পর সব ঠিক। বের হয়ে আসলেন তিনি সুপারভাইজার দের নিয়ে জরুরী মিটিং ডাকলেন।সুপারভাইজাররা রিপোর্ট করে জানাল কোথাও কোন সমস্যা নেই তবে রিএক্টর ৬ এ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ঐ রি এক্টর তো চালু নেই,তাই প্যারাও নেই। টোকিও পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউট কোম্পানীর কাছে একটা খবর পাঠিয়ে দি...

নিউক্লিয়ার বিপর্যয় ( পর্ব ২)

বাংলাদেশের রূপপূর পারমানবিক প্রকল্পের দ্বায়িত্ব পেয়েছে একটা রাশিয়ান একটি কোম্পানি। ইতিহাস থেকে জানা যায় সেই কোম্পানি নিজ দেশের একটা পাওয়ার প্লান্টেই বিরাট ঝামেলার সৃষ্টি করেছিল।সে কোম্পানি আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের পাওয়ার প্লান্টে কি রকম কাজ করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। ষাটের দশকে এই রূপপুরেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রিঅ্যাক্টরের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যুহ (containment building) ছাড়াই ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল রাশিয়া। নিরাপত্তা ব্যুহের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তখনও দম্ভভরে বলেছিল, আমাদের রিঅ্যাক্টর ডিজাইনে কোন খুঁত নেই, তাই এর চারপাশে ব্যুহ তৈরীর প্রয়োজন নেই। অথচ এর কিছু কাল পরেই ১৯৮৬ সালে তাদের নিজেদের কেন্দ্রেই ঘটে চেরনোবিল দূর্ঘটনা যাতে নিরাপত্তা ব্যুহ না থাকার কারণে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে। (Matin, 2012) এখন ১১ নাম্বার আপডেটেড প্রযুক্তি ব্যাবহার করে তৈরি করা হচ্ছে আমাদের পাওয়ার প্লান্ট।এর সহ্যক্ষমতা নিয়ে বলা হয়েছে এটা ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে! আবার এদিক দিয়ে দেখা যায় পাবনায় রূপপূরে কয়েক দশকের মধ্যে ভূমিকম্প ...