থ্রি মাইল আইল্যান্ড,হ্যারিসবার্গ, পেনসেলভেনিয়া,যুক্তরাষ্ট্র
"আমেরিকার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রকল্প মারা গিয়েছে। এটা মারা গিয়েছে থ্রি মাইল আইল্যান্ডে।"
প্রতিটা নিউক্লিয়ার বিপর্যয়ের একটা কারণ থাকে। চেরেনোবিলের ঘটনার পেছনের কারণ ছিল এক্সপেরিমেন্ট। ফুকিশিমা ট্রাজিডির পেছনের কারণ ছিল সুনামি। থ্রি মাইল আইল্যান্ডের দুর্ঘটনার কারণ ছিল যান্ত্রিক ত্রুটি। যদিও বা চেরনোবিল ট্রাজিডির ৬ বছর আগেই হয়েছিল এ দুর্ঘটনা। ফুকুশিমা বা চেরেনবিল ট্রাজিডির থেকে এই দুর্ঘটনাতে অনেক কম ক্ষতি হয়েছিল। আমেরিকার মতে এই দুর্ঘটনায় কোন মানুষ মারা যায় নি। যদিও বা এ নিয়ে বিতর্ক আছে,তবুও আমরা রিপোর্ট এর তথ্যটাকেই সত্য বলে মনে করব। বিস্তারিত তথ্যের জন্য কমেন্টে রিপোর্ট টা রাখলাম,দেখে নিতে পারেন।
T.M.I বা থ্রি মাইল আইল্যান্ড চালু হয় ১৯৭৪ সালে। চালু হওয়ার পর হ্যারিসবার্গ,পেনসেলভিনিয়ার মানুষজন বিরোধিতা করেন।সঠিক বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা না করায় এটা বন্ধ করার দাবি ওঠে। নকশা ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে এ নিয়ে আন্দোলন ও শুরু হয়। তার মধ্যেই ঘটে যায় এ ট্রাজিডি।
২৮ মার্চ ১৯৭৯ সাল। বিকাল ৪ টা। T.M.I এর দুটো রি এক্টর ছিল। দুটো মিলে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ করত। বিকাল ৪ টার দিকে T.M.I 1 এর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয় রি ফুয়েলিং করার জন্য। তবে T.M.I 2 চালু ছিল। হটাৎ করেই রিএক্টরের কুলিং সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়। পানি ঠান্ডা করার জন্য যে কুলিং পাম্প,সেটা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ৯ সেকেন্ডের ভেতরেই পানির তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়।রি এক্টরের ভেতরের প্রেশার ২২০০ PSI থেকে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
রেডিয়েশন বাতাসে ছড়াতে থাকে। পেনসেলভেনিয়ার গভার্নর আর নিউক্লিয়ার প্লান্টের ম্যানেজার দাবি করেন যে বাতাসে রেডিয়েশন ছড়ায়নি। তবে কিছু লোক আশেপাশের ৩ মাইল পর্যন্ত রেডিয়েশনের মাত্রা বিপদজনক মেপে দেখেছেন এবং তা গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়। পেনসেলভেনিয়ার গভার্নর লকডাউন জারি করেন এবং ঘরের জানালা বন্ধ করে থাকতে বলেন।
দ্বিতীয় দিন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। বিজ্ঞানীরা মেল্টডাউনের আশাঙ্কা করেছিলেন এবং সেটাই সত্য হয়। রেডিয়েশন বাড়তে থাকে।সেদিনই হ্যারিসবার্গের হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকজন ভর্তি হওয়ায় আশেপাশের ১০ মাইল খালি করে দেয়া হয়। ১৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়।প্রথমে মহিলা ও শিশুদের,পর্যায়ক্রমে বাকিরা।
স্পেশাল টিম পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। তারা বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে রেডিয়েশন কমানোর চেষ্টা করেন।আর এদিকে গরম রি এক্টরকে ঠান্ডাও করে ফেলেন। মেল্টডাউন যাতে ভয়াবহ না হয় সে পদক্ষেপ ও নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজে এসে দুবার ঘুরে যান TMI পাওয়ার প্লান্ট। তিনি জনগনকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেন। ১২ দিন পর লকডাউন খুলে দেয়া হয়। সম্পূর্ন উদ্ধার অভিযান চালাতে ব্যায় হয় ৪০ মিলিয়ন ডলার! যা পেনসেলভেনিয়ার তৎকালিন ব্যায়ের ১০ ভাগের ১ ভাগ!রিপোর্ট অনুযায়ী থ্রি মাইল আইল্যান্ডের দুর্ঘটনায় কোন মানুষ মারা যায়নি। এমনকি কেউ আহত ও হননি।
থ্রি মাইল আইল্যান্ডের এ ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নিউক্লিয়ার প্লান্ট প্রত্যাহারের দাবি ওঠে। যে আমেরিকাই প্রথমে নিউক্লিয়ার পাওয়ারকে নিরাপদতম বলে মনে করেছিল,তারাই ঘোষণা দেয় পর্যায়ক্রমে তাদের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ করার। দুর্ঘটনার ৩০ বছর পর থ্রি মাইল আইল্যান্ড গতবছর বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রান্সও এ বছর তাদের ২৫ ভাগ নিউক্লিয়ার পাওয়ার উৎপাদন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
থ্রি মাইল আইল্যান্ড আমেরিকার তৎকালীন অন্যতম সিকিউর প্লান্ট ছিল। ১৩ মাসের মাথায় রি এক্টর ২ এ এরূপ দুর্যোগ ঘটার পর সারা বিশ্বে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এখন সেদিকেই বিশ্ব এগুচ্ছে। বারাক ওবামার নির্দেশে ৩০ বছর পর গত বছরের ৩০ শে সেপ্টেম্বর থ্রি মাইল আইল্যান্ড বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় আমারিকার নিউক্লিয়ার ইতিহাসের একটা কালো অধ্যায়।
কিছু কথাঃ এই সিরিজটা সম্পূর্নভাবে নিউক্লিয়ার ট্রাজেডি নিয়ে লেখা। তাই এই সিরিজে এর ক্ষতিকর দিকের কথাই উঠবে। আমরা জানি আধুনিক বিশ্ব গঠনের পেছনে নিউক্লিয়ার ফিশন পাওয়ারের গুরত্ব। তবে এই গুরত্ব অন্যদিনের জন্য তোলা রইল। এখানে যা আলোচনা করা হবে সেটা শুধুমাত্র নিউক্লিয়ার বিপর্যয় নিয়ে এবং তা আমাদের দেশে বা প্রতিবেশি দেশে ঘটলে আমাদের কি হবে তা নিয়ে। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। একটু সাবধানে পড়ার অনুরোধ রইল।
এ আর্টিকেল টা IEBA এর রিপোর্ট অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। কমেন্টে রিপোর্ট টা দিচ্ছি। কোন প্রশ্ন থাকলে দেখে নিতে পারেন

রিপোর্ট ঃ https://eur-lex.europa.eu/legal-content/EN/TXT/PDF/?uri=CELEX%3A51979DC0238&rid=8&fbclid=IwAR1qgfipzZUaGCH2EhCqVIdR1L2TjrqbosVRyXT_nhbFr2WafqNUgOYk0LQ
উত্তরমুছুনএরপর আর পর্ব নেই?
উত্তরমুছুনNo... This is the last part.
মুছুনভাই অনেক ভালো হইছে।
উত্তরমুছুনThanks bro! <3
মুছুন